দেখে নিন প্রাচীন বাংলার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস সম্পকে?? | TwiceBD.Com l


Search Any Page Of TwiceBD.Com

HomeBangladeshi News

দেখে নিন প্রাচীন বাংলার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস সম্পকে??

Md Shaimoon Hossain
Administrator
Total Post 15
ইউটিউবে টুইচবিডিকে সাবস্ক্রাইব করুন

প্রিয় ভাই প্রথমে আমার সালাম নেবেন । আশা করি ভালো আছেন । কারণ TwiceBD.Com এর সাথে থাকলে সবাই ভালো থাকে । আর আপনাদের দোয়ায় আমি ও ভালো আছি । তাই আজ নিয়ে এলাম আপনাদের জন্য আরেক টা নতুন টিপস । আর কথা বাড়াবো না কাজের কথায় আসি ।

প্রাচীন বাংলার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস:

মানুষ সামাজিক জীব। সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করাই তার স্বভাব। এভাবে বাস করতে হলে চাই একে অন্যের সাথে সহযােগিতা। এ কারণেই মানুষের প্রয়ােজন পড়ে বিভিন্ন সামাজিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তােলা। জীবন বাঁচাতে প্রধান তিনটি জিনিসের প্রথম প্রয়ােজন- খাদ্য, বস্ত্র এবং বাসস্থান। এর পরই মানুষ জীবনকে সুন্দরভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে মনােযােগ দেয় শিক্ষা, বিজ্ঞান, শিল্পকলা, আইন প্রভৃতির উন্নয়নে । সমাজ জীবন বিকাশে মানুষের এ সমস্ত কাজকর্মের একত্রিত রূপই হচ্ছে তার সংস্কৃতি। আর্যদের আগমনের পূর্বে বাংলার প্রাচীন মানুষ একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবন গড়ে তুলেছিল। বাংলার সমাজ-সংস্কৃতির এটাই সবচেয়ে প্রাচীন রূপ। পণ্ডিতদের মতে, এদের ভাষার নাম ছিল ‘অস্ট্রিক। জাতি হিসেবে এদের বলা হতাে নিষাদ। এরপর বাংলার ক্ষুদ্র নৃগােষ্ঠীর সাথে মিশে যায় ‘আলপাইন’ নামে এক জাতি। আর্যরা এদেশে আসার পূর্বে এরা মিলেমিশে বাংলার সংস্কৃতি গড়ে তােলে। বাঙালির জনপ্রকৃতিতে বিভিন্ন মানবগােষ্ঠীর ধারা এসে মিলিত হয়েছে। এটি তাদেরকে ‘সংকর-জন’ হিসেবে পরিচিত করেছে। বহু বছর বিচিত্র আদান-প্রদান ও মিশ্রণের ফলে বাঙালির একটি নিজস্ব দৈহিক বৈশিষ্ট্য তৈরি হয়েছে।

প্রাচীন বাংলার সামাজিক জীবন:


প্রাচীন বাংলার সামাজিক জীবন মৌর্য শাসনের পূর্বে বাংলার অধিবাসীদের মধ্যে তেমন কোনাে রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে ওঠেনি। এ সময়ে। সমাজ বিভিন্ন গােত্রে বিভক্ত ছিল। একে বলা হতাে কৌম সমাজ। আর্যপূর্ব কিছু কিছু ধর্মচিন্তা বা দর্শন। | পরবর্তী সময়ে এদেশের হিন্দু ধর্মে ছড়িয়ে পড়ে। এগুলাের মধ্যে উল্লেখযােগ্য হলাে- কর্মফল, জন্মান্তরবাদ, যােগ সাধনা ইত্যাদি। এ যুগের অনেক সামাজিক প্রথা ও আচার-আচরণের প্রভাব পরবর্তী সময়ে হিন্দু সমাজে লক্ষ করা যায়। যেমন— অতিথিদের পান-সুপারি খেতে দেওয়া, শিবের গীত গাওয়া, বিয়েতে গায়ে। হলুদ দেয়া, ধুতি-শাড়ি পরা এবং মেয়েদের কপালে সিঁদুর দেয়া ইত্যাদি।আর্য সমাজে জাতিভেদ প্রথা অত্যন্ত ব্যাপক ছিল। তারা দীর্ঘদিন এদেশে বসবাস করার ফলে বাংলায়ও। এ ব্যবস্থা চালু হয়। তখন হিন্দুদের মধ্যে ব্রহ্মাণ ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শদ্র এ চারটি বর্ণের বিভাজন ছিল । পরবর্তী সময়ে আরও নানা প্রকার সংকর অর্থাৎ মিশা জাতির সৃষ্টি হয়। সমাজে প্রত্যেক জাতিরই নির্দিষ্ট। ছিল। অধ্যয়ন, অধ্যাপনা ও পজা-পার্বণ করা– এগুলাে ছিল ব্রাহ্মণদের নির্দিষ্ট কম। তারা সমাজে। পটে ম্যাদা লাভ করতাে। ক্ষত্রিয়দের পেশা ছিল যুদ্ধ করা। ব্যবসা-বাণিজ্য করা ছিল বৈশ্যদের কাজ। সবচেয়ে নীচু শ্রেণির শূদ্ররা সাধারণত কৃষিকাজ, মাছ শিকার ও অন্যান্য ছােটখাটো কাজ করত। ব্রাহ্মণ হতু বাকি সব বর্ণের মানুষ একে অন্যের সাথে মেলামেশা করতাে। সাধারণত এক জাতির মধ্যেই বিবাহ। হতাে, তবে উচ্চ শ্রেণির বর ও নিম্ন শ্রেণির কনের মধ্যে বিবাহও চালু ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এসব | ব্যাপারে কঠোর নিয়ম চালু হয়।বাঙালি মেয়েদের গুণাবলির সুখ্যাতি ছিল। মেয়েরা লেখাপড়া শিখত। সে যুগে অবরােধ বা পর্দাপ্রথা ছিল না। একটি বিবাহ ছিল সমাজের নিয়ম। তবে পুরষেরা বহু স্ত্রী রাখতে পারত। বিধবাকে নিরামিষ আহার করে সব ধরনের বিলাসিতা ত্যাগ করতে হতাে। স্বামীর মৃত্যু হলে স্ত্রীকেও মৃত স্বামীর চিতায় সহমরণে যেতে হতাে। এ প্রথাকে বলা হয় সতীদাহ প্রথা’। ধন-সম্পত্তিতে নারীদের কোনাে আইনগত অধিকার ছিল না। বাংলার প্রাচীন ধর্মশাস্ত্রে বাঙালির উন্নত চরিত্রের কথা জানা যায়। কিন্তু তাই বলে বাঙালির সামাজিক জীবনে কোনােরূপ দুর্নীতি ও অশ্লীলতা ছিল না, এমন কথা বলা যায় না।বাঙালির প্রধান খাদ্য বর্তমান সময়ের মতাে তখনও ছিল ভাত, মাছ, মাংস, শাক-সবজি, দুধ, দধি, ঘৃত, ক্ষীর | ইত্যাদি। চাল থেকে প্রস্তুত নানা প্রকার পিঠাও জনপ্রিয় মুখরােচক খাবার ছিল। বাঙালি ব্রাহ্মণেরা আমিষ – খেত। তখন সকল প্রকার মাছ পাওয়া যেত। পূর্ববঙ্গে ইলিশ ও শুটকি মাছ খুব প্রিয় খাবার ছিল । তরকারির মধ্যে বেগুন, লাউ, কুমড়া, ঝিঙ্গা, কাকরােল, ক উৎপন্ন হতো। ফলের মধ্যে আম, কাঁঠাল, কলা, তাল, পেঁপে, | নারকেল, ইক্ষু পাওয়া যেত। তবে ডালের কথা কোথাও বলা নেই । দুধ, নারকেলের পানি, ইক্ষরস, তালরসসহ নানা প্রকার পানীয় খাবার প্রচলিত ছিল। খাওয়া-দাওয়া শেষে মসলাযুক্ত পান খাওয়ার রীতি ছিল।পােশাক-পরিচ্ছদের ব্যাপারে রাজা-মহারাজা ও ধনীদের কথা বাদ দিলে বিশেষ কোনাে আড়ম্বর তখন ছিল। । বাংলার নর-নারীরা যথাক্রমে ধুতি ও শাড়ি পরিধান করত । মাঝে মাঝে পুরুষেরা গায়ে চাদর আর মেয়েরা পরতাে ওড়না। উৎসব-অনুষ্ঠানে বিশেষ পােশাকের ব্যবস্থা ছিল। পুরুষ-নারী উভয়ের মধ্যেই অলঙ্কার ব্যবহারের রীতি প্রচলিত ছিল। তারা কানে কুণ্ডল, গলায় হার, আঙ্গুলে আংটি, হাতে বালা ও পায়ে মল পরিধান করত । মেয়েরাই কেবল হাতে শখের বালা পরত এবং অনেক চুড়ি পরতে ভালােবাসত। মণি-মুক্তা ও দামি সােনা-রুপার অলঙ্কার ধনীরা ব্যবহার করত। মেয়েরা নানাপ্রকার খােপা বাধত। পুরুষদের বাবরি চুল কাঁধের ওপর ঝুলে থাকত । কপূর, চন্দন প্রভৃতি প্রসাধনসামগ্রীর সঙ্গে বিভিন্ন সুগন্ধির ব্যবহারের প্রচলন ছিল । মেয়েদের সাজসজ্জায় আলতা, সিঁদুর ও কুমকুমের ব্যবহারও তখন প্রচলিত ছিল। পুরুষেরা মাঝে মধ্যে। কাঠের খড়ম বা চামড়ার চটিজুতা ব্যবহার করত। তখন ছাতারও প্রচলন ছিল । তখনকার দিনে নানা রকম খেলাধুলা ও আমােদ-প্রমােদের ব্যবস্থা ছিল। পাশা ও দাবা খেলার প্রচলন ছিল। তবে নাচ-গান ও অভিনয়ের প্রচলন ছিল খুব বেশি। বীণা, বাঁশি, মৃদঙ্গ, ঢাক, ঢােল, খােল, করতাল ইত্যাদি তাে ছিলই, এমনকি মাটির পাত্রকেও বাদ্যযন্ত্ররূপে ব্যবহার করা হতাে। কুস্তি, শিকার, ব্যায়াম, নৌকাবাইচ ও বাজিকরের খেলা পরষদের খুব পছন্দ ছিল। নারীদের মধ্যে উদ্যান রচনা, জলক্রীড়া ইত্যাদি আমােদ-প্রমােদের প্রচলন : ছিল।অন্নপ্রাশন, বিয়ে, শ্রাদ্ধ ইত্যাদি সামাজিক আচার-আচরণ অনুষ্ঠান সে যুগেও প্রচলিত ছিল। বারাে মাসে। তেরাে পার্বণ অনুষ্ঠিত হতাে। এ উপলক্ষে নানা প্রকার আমােদ-উৎসবের ব্যবস্থা ছিল। প্রাচীনকালে বাংলায়। | বর্তমানকালের ন্যায় ভ্রাতৃদ্বিতীয়া (ভাইফোঁটা), নবান্ন, রথযাত্রা, অষ্টমী স্নান, হােলি, জন্মাষ্টমী, দশহরা,। অক্ষয় তৃতীয়া, গঙ্গাস্নান প্রভৃতি সুপরিচিত অনুষ্ঠান সেকালেও প্রচলিত ছিল। এসব আমােদ-উৎসব ছাড়াও তখন হিন্দুধর্মে অনেক লৌকিক অনুষ্ঠানও দেখা যায়। শিশুর জন্মের পূর্বে তার মঙ্গলের জন্য গর্ভাধান, সীমন্তোন্নয়ন ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হতাে। জন্মের পর নামকরণ, অন্নপ্রাশন ইত্যাদি উপচার পালন করা হতাে। প্রাচীনকালে বাংলার জনগণের দৈনন্দিন জীবনে ধর্মশাস্ত্রের প্রবল প্রভাব ছিল। কোন তিথিতে কী খাদ্য নিষিদ্ধ | কোন তিথিতে উপবাস করতে হবে এবং বিবাহ, শিশু বয়সে পড়াশুনা শুরু করা, বিদেশ যাত্রা, তীর্থযাত্রা প্রভৃতির জন্য কোন কোন সময় শুভ বা অশুভ ইত্যাদি বিষয়ে নিয়ম কঠোরভাবে পালিত হতাে।প্রাচীন বাংলার মানুষের যাতায়াতের প্রধান বাহন ছিল গরুর গাড়ি ও নৌকা। খাল-বিলে চলাচলের জন্য ভেলা। ও ডােঙ্গা ব্যবহার করা হতাে। মানুষ ছােট ছােট খাল পার হতাে সাঁকো দিয়ে । ধনী লােকেরা হাতি, ঘােড়া, ঘােড়ার গাড়ি প্রভৃতি যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করতাে। তাদের স্ত্রী-পরিজনেরা নৌকা ও পালকিতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে আসা-যাওয়া করতাে। বিয়ের পর নববধূকে গরুর গাড়ি বা পালকিতে করে শ্বশুরবাড়ি আনা হতাে। সর্বোপরি মনে হয় যে, আধুনিক কালের গ্রামীণ জীবনযাত্রা এবং সেকালের জীবনযাত্রার মধ্যে খুব | বেশি পার্থক্য ছিল না।কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে বাংলার অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বাস করত। মানুষের জীবন মােটামুটি সুখের | ছিল। তবে প্রাচীন বাংলার গরিব-দুঃখী মানুষে র কথাও জানা যায় । সমাজের উঁচু শ্রেণি অর্থাৎ ব্রাহ্মণদের হাতে ছিল মূল ক্ষমতা। এ সময় শুধু ব্রাহ্মণরাই শাস্ত্রজ্ঞান চর্চা করতে পারতাে। ব্রাহ্মণদের অত্যাচার সাধারণ মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। এ উৎপাত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রতি অধিক হতাে। শেষ দিকে সেন রাজাদের অত্যাচারে সাধারণ মানুষ অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হয়ে ওঠে। সেন বংশের শাসনামলে বৌদ্ধ সমাজ ও সংস্কৃতিতে নেমে আসে দুর্দশা । ব্রাহ্মণদের প্রভাবে সেনদের সময়ে সাধারণ হিন্দু সমাজ দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রাচীন বাংলার শেষ পর্যায়ে এ বিশৃঙ্খল অবস্থায় মুসলমান সমাজের ভিত গড়ে | ওঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়। মুসলমান সমাজ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বাংলায় মধ্যযুগের সূচনা হয়। আর এ যুগে | বাংলার সমাজ-সংস্কৃতির রূপও পাল্টে যায়।

প্রাচীন বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থা:


বাংলা চিরকালই কষিপ্রধান দেশ। প্রাচীনকালে অধিকাংশ মানুষই গ্রামে বাস করতাে আর গ্রামের আশপাশের ভূমি চাষ করে সংসার চালাতাে। তাই এদেশের অর্থনীতি গড়ে উঠেছে কৃষির ওপর নির্ভর করে। ধান ছিল। বাংলার প্রধান ফসল। এ ছাড়া, পাট, ইক্ষু, তুলা, নীল, সরিষা ও পান চাষের জন্য বাংলার খ্যাতি ছিল।ফলবান বক্ষের মধ্যে ছিল আম, কাঁঠাল, নারকেল, সুপারি, ডালিম, কলা, লেবু, ডুমুর, খেজুর ইত্যাদি। এলাচি, লবঙ্গ প্রভৃতি মসলাও বঙ্গে উৎপন্ন হতাে। গৃহপালিত পশুর মধ্যে গরু, ছাগল, মেষ, হাঁস-মুরগি, কুকুর ইত্যাদি ছিল প্রধান। লবণ ও শুটকি দেশের কোনাে কোনাে অংশে উৎপন্ন হতাে।| কুটির শিল্পে প্রাচীন বাংলা অত্যন্ত সমৃদ্ধ ছিল। গ্রামের লােকদের দরকারি সব কিছু গ্রামেই তৈরি হতাে। | মাটির তৈরি জিনিসপত্রের মধ্যে ছিল কলস, ঘটি-বাটি, হাঁড়ি-পাতিল, বাসনপত্র ইত্যাদি। লােহার তৈরি জিনিসপত্রের মধ্যে ছিল দা, কুড়াল, কোদাল, খন্তা, খুরপি, লাঙ্গল ইত্যাদি। এছাড়া জলের পাত্র, তীর, বর্শা, | তলােয়ার প্রভৃতি যুদ্ধের অস্ত্রশস্ত্র তৈরি হতাে । বিলাসিতার নানা রকম জিনিসের জন্য স্বর্ণ-শিল্প ও মণি-মাণিক্য শিল্প অনেক উন্নতি লাভ করেছিল । কাঠের শিল্পও সে সময়ে অত্যন্ত উন্নত ছিল । সংসারের আসবাবপত্র, ঘর-বাড়ি, মন্দির, পাল্কি, গরুর গাড়ি, ঘােড়ার গাড়ি, রথ প্রভৃতি কাঠের দ্বারাই তৈরি হতাে । এছাড়া নদীপথে চলাচলের জন্য নানা প্রকার নৌকা ও সমুদ্রে চলাচলের জন্য কাঠের বড় বড় নৌকা বা জাহাজ তৈরি হতাে।বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান হলেও অতি প্রাচীনকাল থেকে এখানে নানা প্রকার শিল্পজাত দ্রব্য তৈরি হতাে। বস্ত্র শিল্পের জন্য বাংলা প্রাচীনকালেই বিখ্যাত হয়ে উঠেছিল। বিশ্বখ্যাত মসলিন কাপড় প্রাচীনকাল থেকেই বাংলায় তৈরি হতাে। এ বস্ত্র এত সূক্ষ্ম ছিল যে, ২০ গজ মসলিন একটি নস্যির কৌটায় ভরা যেত । কার্পাস তুলা ও রেশমের তৈরি উন্নতমানের সূক্ষ্ম বস্ত্রের জন্যও বঙ্গ প্রসিদ্ধ ছিল। শণের তৈরি মােটা কাপড়ও তখন প্রস্তুত হতাে। জানা যায় যে, বঙ্গদেশে সে সময় টিন পাওয়া যেত।বঙ্গে কৃষি ও শিল্পদ্রব্যের প্রাচুর্য ছিল। আবার এগুলাের খুব চাহিদাও ছিল ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। তাই বঙ্গের সঙ্গে প্রাচীনকালে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য চলত। বঙ্গের রপ্তানি পণ্যের মধ্যে উল্লেখযােগ্য ছিল সুতি ও রেশমি কাপড়, চিনি, গুড়, লবণ, তেজপাতা ও অন্যান্য মসলা, চাল, নারকেল, সুপারি, ঔষধ তৈরির গাছপালা, নানা প্রকার হীরা, মুক্তা, পান্না ইত্যাদি।| শিল্পের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে বাংলার বাণিজ্যও যথেষ্ট প্রসার লাভ করেছিল। স্থল ও জল উভয় পথেই বাণিজ্যের আদান-প্রদান চলত। দেশের ভেতরে বাণিজ্য ছাড়াও সে সময়ে বাংলা বৈদেশিক বাণিজ্যে বিশেষ উন্নত ছিল । স্থল ও জলপথে ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে বাংলার পণ্য বিনিময় চলতাে। এ কারণে বাংলার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় নগর ও বাণিজ্য বন্দর গড়ে উঠেছিল। এগুলাে হলাে-নব্যাবশিকা, কোটীবর্ষ, পুণ্ড্রবর্ধন, তামলিপ্ত, কর্ণসুবর্ণ, সপ্তগ্রাম ইত্যাদি। অবশ্য শহর ছাড়া গ্রামের হাটবাজারেও কিছু কিছু ব্যবসা-বাণিজ্য চলতাে। এসব গ্রামের হাটে গ্রামে উৎপন্ন ও নিত্যপ্রয়ােজনীয় জিনিসপত্র বেচাকেনা হতাে। সমুদ্রপথে | সিংহল, ব্রহ্মদেশ, চম্পা, কম্বােজ, যবদ্বীপ, মালয়, শ্যাম, সুমাত্রা, চীন প্রভৃতি দেশের সঙ্গে বাংলার পণ্য। বিনিময় চলতাে। স্থলপথে চীন, নেপাল, ভুটান, তিব্বত ও মধ্য এশিয়া প্রভৃতি দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক। যােগাযােগ ছিল।| শিল্পের উন্নতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের ফলে বাংলার ধন-সম্পদ ও ঐশ্বর্য প্রচুর বৃদ্ধি পেয়েছিল ।। প্রাচীনকালে হয়ত ক্রয়-বিক্রয় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য বিনিময় প্রথা প্রচলিত ছিল। সম্ভবত খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ । শতকের পূর্বে বাংলায় মুদ্রার প্রচলন আরম্ভ হয়। বিভিন্ন সময়ে বঙ্গদেশে বিভিন্ন প্রকার মুদ্রা চালু থাকলেও | এখানে কড়ি সবচেয়ে কম মান হিসেবে ব্যবহৃত হতাে।

তাহলে ভাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন TwiceBD.Com এর সাথে থাকুন । আর এই সাইট যদি ভালো লাগে আপনার বন্ধুদের জানাবেন । ধন্যবাদ ।

4 months ago (October 3, 2019) 130 Views

2 responses to “দেখে নিন প্রাচীন বাংলার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস সম্পকে??”

Leave a Reply


Back to top