Posted on 1 Comment

দেখে নিন প্রাচীন বাংলার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস সম্পকে??

[start]
[img id=2451]
[h2]প্রাচীন বাংলার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস:[/h2]
মানুষ সামাজিক জীব। সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করাই তার স্বভাব। এভাবে বাস করতে হলে চাই একে
অন্যের সাথে সহযােগিতা। এ কারণেই মানুষের প্রয়ােজন পড়ে বিভিন্ন সামাজিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকসহ
অন্যান্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তােলা। জীবন বাঁচাতে প্রধান তিনটি জিনিসের প্রথম প্রয়ােজন- খাদ্য, বস্ত্র এবং
বাসস্থান। এর পরই মানুষ জীবনকে সুন্দরভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে মনােযােগ দেয় শিক্ষা, বিজ্ঞান, শিল্পকলা,
আইন প্রভৃতির উন্নয়নে । সমাজ জীবন বিকাশে মানুষের এ সমস্ত কাজকর্মের একত্রিত রূপই হচ্ছে তার
সংস্কৃতি। আর্যদের আগমনের পূর্বে বাংলার প্রাচীন মানুষ একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবন গড়ে তুলেছিল।
বাংলার সমাজ-সংস্কৃতির এটাই সবচেয়ে প্রাচীন রূপ। পণ্ডিতদের মতে, এদের ভাষার নাম ছিল ‘অস্ট্রিক।
জাতি হিসেবে এদের বলা হতাে নিষাদ। এরপর বাংলার ক্ষুদ্র নৃগােষ্ঠীর সাথে মিশে যায় ‘আলপাইন’ নামে
এক জাতি। আর্যরা এদেশে আসার পূর্বে এরা মিলেমিশে বাংলার সংস্কৃতি গড়ে তােলে। বাঙালির জনপ্রকৃতিতে
বিভিন্ন মানবগােষ্ঠীর ধারা এসে মিলিত হয়েছে। এটি তাদেরকে ‘সংকর-জন’ হিসেবে পরিচিত করেছে।
বহু বছর বিচিত্র আদান-প্রদান ও মিশ্রণের ফলে

বাঙালির একটি নিজস্ব দৈহিক বৈশিষ্ট্য তৈরি হয়েছে।
[h2]প্রাচীন বাংলার সামাজিক জীবন:[/h2]

প্রাচীন বাংলার সামাজিক জীবন
মৌর্য শাসনের পূর্বে বাংলার অধিবাসীদের মধ্যে তেমন কোনাে রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে ওঠেনি। এ সময়ে।
সমাজ বিভিন্ন গােত্রে বিভক্ত ছিল। একে বলা হতাে কৌম সমাজ। আর্যপূর্ব কিছু কিছু ধর্মচিন্তা বা দর্শন।
| পরবর্তী সময়ে এদেশের হিন্দু ধর্মে ছড়িয়ে পড়ে। এগুলাের মধ্যে উল্লেখযােগ্য হলাে- কর্মফল, জন্মান্তরবাদ,
যােগ সাধনা ইত্যাদি। এ যুগের অনেক সামাজিক প্রথা ও আচার-আচরণের প্রভাব পরবর্তী সময়ে হিন্দু
সমাজে লক্ষ করা যায়। যেমন— অতিথিদের পান-সুপারি খেতে দেওয়া, শিবের গীত গাওয়া, বিয়েতে গায়ে।
হলুদ দেয়া, ধুতি-শাড়ি পরা এবং মেয়েদের কপালে সিঁদুর দেয়া ইত্যাদি।আর্য সমাজে জাতিভেদ প্রথা অত্যন্ত ব্যাপক ছিল। তারা দীর্ঘদিন এদেশে বসবাস করার ফলে বাংলায়ও।
এ ব্যবস্থা চালু হয়। তখন হিন্দুদের মধ্যে ব্রহ্মাণ ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শদ্র এ চারটি বর্ণের বিভাজন ছিল ।
পরবর্তী সময়ে আরও নানা প্রকার সংকর অর্থাৎ মিশা জাতির সৃষ্টি হয়। সমাজে প্রত্যেক জাতিরই নির্দিষ্ট।

ছিল। অধ্যয়ন, অধ্যাপনা ও পজা-পার্বণ করা– এগুলাে ছিল ব্রাহ্মণদের নির্দিষ্ট কম। তারা সমাজে।
পটে ম্যাদা লাভ করতাে। ক্ষত্রিয়দের পেশা ছিল যুদ্ধ করা। ব্যবসা-বাণিজ্য করা ছিল বৈশ্যদের কাজ।
সবচেয়ে নীচু শ্রেণির শূদ্ররা সাধারণত কৃষিকাজ, মাছ শিকার ও অন্যান্য ছােটখাটো কাজ করত। ব্রাহ্মণ
হতু বাকি সব বর্ণের মানুষ একে অন্যের সাথে মেলামেশা করতাে। সাধারণত এক জাতির মধ্যেই বিবাহ।
হতাে, তবে উচ্চ শ্রেণির বর ও নিম্ন শ্রেণির কনের মধ্যে বিবাহও চালু ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে এসব
| ব্যাপারে কঠোর নিয়ম চালু হয়।বাঙালি মেয়েদের গুণাবলির সুখ্যাতি ছিল। মেয়েরা লেখাপড়া শিখত। সে যুগে অবরােধ বা পর্দাপ্রথা ছিল
না। একটি বিবাহ ছিল সমাজের নিয়ম। তবে পুরষেরা বহু স্ত্রী রাখতে পারত। বিধবাকে নিরামিষ
আহার করে সব ধরনের বিলাসিতা ত্যাগ করতে হতাে। স্বামীর মৃত্যু হলে স্ত্রীকেও মৃত স্বামীর চিতায়
সহমরণে যেতে হতাে। এ প্রথাকে বলা হয় সতীদাহ প্রথা’। ধন-সম্পত্তিতে নারীদের কোনাে
আইনগত অধিকার ছিল না। বাংলার প্রাচীন ধর্মশাস্ত্রে বাঙালির উন্নত চরিত্রের কথা জানা যায়। কিন্তু
তাই বলে বাঙালির সামাজিক জীবনে কোনােরূপ দুর্নীতি ও অশ্লীলতা ছিল না, এমন কথা বলা যায় না।বাঙালির প্রধান খাদ্য বর্তমান সময়ের মতাে তখনও ছিল ভাত, মাছ, মাংস, শাক-সবজি, দুধ, দধি, ঘৃত, ক্ষীর
| ইত্যাদি। চাল থেকে প্রস্তুত নানা প্রকার পিঠাও জনপ্রিয় মুখরােচক খাবার ছিল। বাঙালি ব্রাহ্মণেরা আমিষ
– খেত। তখন সকল প্রকার মাছ পাওয়া যেত। পূর্ববঙ্গে ইলিশ ও শুটকি মাছ খুব প্রিয় খাবার ছিল । তরকারির

মধ্যে বেগুন, লাউ, কুমড়া, ঝিঙ্গা, কাকরােল, ক উৎপন্ন হতো। ফলের মধ্যে আম, কাঁঠাল, কলা, তাল, পেঁপে,
| নারকেল, ইক্ষু পাওয়া যেত। তবে ডালের কথা কোথাও বলা নেই । দুধ, নারকেলের পানি, ইক্ষরস, তালরসসহ
নানা প্রকার পানীয় খাবার প্রচলিত ছিল। খাওয়া-দাওয়া শেষে মসলাযুক্ত পান খাওয়ার রীতি ছিল।পােশাক-পরিচ্ছদের ব্যাপারে রাজা-মহারাজা ও ধনীদের কথা বাদ দিলে বিশেষ কোনাে আড়ম্বর তখন ছিল।

। বাংলার নর-নারীরা যথাক্রমে ধুতি ও শাড়ি পরিধান করত । মাঝে মাঝে পুরুষেরা গায়ে চাদর আর
মেয়েরা পরতাে ওড়না। উৎসব-অনুষ্ঠানে বিশেষ পােশাকের ব্যবস্থা ছিল। পুরুষ-নারী উভয়ের মধ্যেই অলঙ্কার
ব্যবহারের রীতি প্রচলিত ছিল। তারা কানে কুণ্ডল, গলায় হার, আঙ্গুলে আংটি, হাতে বালা ও পায়ে মল
পরিধান করত । মেয়েরাই কেবল হাতে শখের বালা পরত এবং অনেক চুড়ি পরতে ভালােবাসত। মণি-মুক্তা
ও দামি সােনা-রুপার অলঙ্কার ধনীরা ব্যবহার করত। মেয়েরা নানাপ্রকার খােপা বাধত। পুরুষদের বাবরি
চুল কাঁধের ওপর ঝুলে থাকত । কপূর, চন্দন প্রভৃতি প্রসাধনসামগ্রীর সঙ্গে বিভিন্ন সুগন্ধির ব্যবহারের প্রচলন
ছিল । মেয়েদের সাজসজ্জায় আলতা, সিঁদুর ও কুমকুমের ব্যবহারও তখন প্রচলিত ছিল। পুরুষেরা মাঝে মধ্যে।
কাঠের খড়ম বা চামড়ার চটিজুতা ব্যবহার করত। তখন ছাতারও প্রচলন ছিল । তখনকার দিনে নানা রকম
খেলাধুলা ও আমােদ-প্রমােদের ব্যবস্থা ছিল। পাশা ও দাবা খেলার প্রচলন ছিল। তবে নাচ-গান ও
অভিনয়ের প্রচলন ছিল খুব বেশি। বীণা, বাঁশি, মৃদঙ্গ, ঢাক, ঢােল, খােল, করতাল ইত্যাদি তাে ছিলই,
এমনকি মাটির পাত্রকেও বাদ্যযন্ত্ররূপে ব্যবহার করা হতাে। কুস্তি, শিকার, ব্যায়াম, নৌকাবাইচ ও বাজিকরের
খেলা পরষদের খুব পছন্দ ছিল। নারীদের মধ্যে উদ্যান রচনা, জলক্রীড়া ইত্যাদি আমােদ-প্রমােদের প্রচলন :
ছিল।অন্নপ্রাশন, বিয়ে, শ্রাদ্ধ ইত্যাদি সামাজিক আচার-আচরণ অনুষ্ঠান সে যুগেও প্রচলিত ছিল। বারাে মাসে।

তেরাে পার্বণ অনুষ্ঠিত হতাে। এ উপলক্ষে নানা প্রকার আমােদ-উৎসবের ব্যবস্থা ছিল। প্রাচীনকালে বাংলায়।
| বর্তমানকালের ন্যায় ভ্রাতৃদ্বিতীয়া (ভাইফোঁটা), নবান্ন, রথযাত্রা, অষ্টমী স্নান, হােলি, জন্মাষ্টমী, দশহরা,।
অক্ষয় তৃতীয়া, গঙ্গাস্নান প্রভৃতি সুপরিচিত অনুষ্ঠান সেকালেও প্রচলিত ছিল। এসব আমােদ-উৎসব ছাড়াও
তখন হিন্দুধর্মে অনেক লৌকিক অনুষ্ঠানও দেখা যায়। শিশুর জন্মের পূর্বে তার মঙ্গলের জন্য গর্ভাধান,
সীমন্তোন্নয়ন ইত্যাদি অনুষ্ঠিত হতাে। জন্মের পর নামকরণ, অন্নপ্রাশন ইত্যাদি উপচার পালন করা হতাে।

প্রাচীনকালে বাংলার জনগণের দৈনন্দিন জীবনে ধর্মশাস্ত্রের প্রবল প্রভাব ছিল। কোন তিথিতে কী খাদ্য নিষিদ্ধ
| কোন তিথিতে উপবাস করতে হবে এবং বিবাহ, শিশু বয়সে পড়াশুনা শুরু করা, বিদেশ যাত্রা, তীর্থযাত্রা

প্রভৃতির জন্য কোন কোন সময় শুভ বা অশুভ ইত্যাদি বিষয়ে নিয়ম কঠোরভাবে পালিত হতাে।প্রাচীন বাংলার মানুষের যাতায়াতের প্রধান বাহন ছিল গরুর গাড়ি ও নৌকা। খাল-বিলে চলাচলের জন্য ভেলা।
ও ডােঙ্গা ব্যবহার করা হতাে। মানুষ ছােট ছােট খাল পার হতাে সাঁকো দিয়ে । ধনী লােকেরা হাতি, ঘােড়া,
ঘােড়ার গাড়ি প্রভৃতি যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করতাে। তাদের স্ত্রী-পরিজনেরা নৌকা ও পালকিতে এক স্থান
থেকে অন্য স্থানে আসা-যাওয়া করতাে। বিয়ের পর নববধূকে গরুর গাড়ি বা পালকিতে করে শ্বশুরবাড়ি

আনা হতাে। সর্বোপরি মনে হয় যে, আধুনিক কালের গ্রামীণ জীবনযাত্রা এবং সেকালের জীবনযাত্রার মধ্যে খুব
| বেশি পার্থক্য ছিল না।কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে বাংলার অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বাস করত। মানুষের জীবন মােটামুটি সুখের
| ছিল। তবে প্রাচীন বাংলার গরিব-দুঃখী মানুষে
র কথাও জানা যায় । সমাজের উঁচু শ্রেণি অর্থাৎ ব্রাহ্মণদের
হাতে ছিল মূল ক্ষমতা। এ সময় শুধু ব্রাহ্মণরাই শাস্ত্রজ্ঞান চর্চা করতে পারতাে। ব্রাহ্মণদের অত্যাচার
সাধারণ মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। এ উৎপাত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের প্রতি অধিক হতাে।
শেষ দিকে সেন রাজাদের অত্যাচারে সাধারণ মানুষ অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হয়ে ওঠে। সেন বংশের শাসনামলে
বৌদ্ধ সমাজ ও সংস্কৃতিতে নেমে আসে দুর্দশা । ব্রাহ্মণদের প্রভাবে সেনদের সময়ে সাধারণ হিন্দু
সমাজ দুর্বল হয়ে পড়ে। প্রাচীন বাংলার শেষ পর্যায়ে এ বিশৃঙ্খল অবস্থায় মুসলমান সমাজের ভিত গড়ে
| ওঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়। মুসলমান সমাজ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বাংলায় মধ্যযুগের সূচনা হয়। আর এ যুগে
| বাংলার সমাজ-সংস্কৃতির রূপও পাল্টে যায়।
[img id=2452]
[h2]প্রাচীন বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থা:[/h2]

বাংলা চিরকালই কষিপ্রধান দেশ। প্রাচীনকালে অধিকাংশ মানুষই গ্রামে বাস করতাে আর গ্রামের আশপাশের

ভূমি চাষ করে সংসার চালাতাে। তাই এদেশের অর্থনীতি গড়ে উঠেছে কৃষির ওপর নির্ভর করে। ধান ছিল।
বাংলার প্রধান ফসল। এ ছাড়া, পাট, ইক্ষু, তুলা, নীল, সরিষা ও পান চাষের জন্য বাংলার খ্যাতি ছিল।ফলবান বক্ষের মধ্যে ছিল আম, কাঁঠাল, নারকেল, সুপারি, ডালিম, কলা, লেবু, ডুমুর, খেজুর ইত্যাদি।
এলাচি, লবঙ্গ প্রভৃতি মসলাও বঙ্গে উৎপন্ন হতাে। গৃহপালিত পশুর মধ্যে গরু, ছাগল, মেষ, হাঁস-মুরগি,
কুকুর ইত্যাদি ছিল প্রধান। লবণ ও শুটকি দেশের কোনাে কোনাে অংশে উৎপন্ন হতাে।| কুটির শিল্পে প্রাচীন বাংলা অত্যন্ত সমৃদ্ধ ছিল। গ্রামের লােকদের দরকারি সব কিছু গ্রামেই তৈরি হতাে।
| মাটির তৈরি জিনিসপত্রের মধ্যে ছিল কলস, ঘটি-বাটি, হাঁড়ি-পাতিল, বাসনপত্র ইত্যাদি। লােহার তৈরি

জিনিসপত্রের মধ্যে ছিল দা, কুড়াল, কোদাল, খন্তা, খুরপি, লাঙ্গল ইত্যাদি। এছাড়া জলের পাত্র, তীর, বর্শা,
| তলােয়ার প্রভৃতি যুদ্ধের অস্ত্রশস্ত্র তৈরি হতাে । বিলাসিতার নানা রকম জিনিসের জন্য স্বর্ণ-শিল্প ও মণি-মাণিক্য
শিল্প অনেক উন্নতি লাভ করেছিল । কাঠের শিল্পও সে সময়ে অত্যন্ত উন্নত ছিল । সংসারের আসবাবপত্র,
ঘর-বাড়ি, মন্দির, পাল্কি, গরুর গাড়ি, ঘােড়ার গাড়ি, রথ প্রভৃতি কাঠের দ্বারাই তৈরি হতাে । এছাড়া নদীপথে
চলাচলের জন্য নানা প্রকার নৌকা ও সমুদ্রে চলাচলের জন্য কাঠের বড় বড় নৌকা বা জাহাজ তৈরি হতাে।বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান হলেও অতি প্রাচীনকাল থেকে এখানে নানা প্রকার শিল্পজাত দ্রব্য তৈরি হতাে।
বস্ত্র শিল্পের জন্য বাংলা প্রাচীনকালেই বিখ্যাত হয়ে উঠেছিল। বিশ্বখ্যাত মসলিন কাপড় প্রাচীনকাল থেকেই
বাংলায় তৈরি হতাে। এ বস্ত্র এত সূক্ষ্ম ছিল যে, ২০ গজ মসলিন একটি নস্যির কৌটায় ভরা যেত ।
কার্পাস তুলা ও রেশমের তৈরি উন্নতমানের সূক্ষ্ম বস্ত্রের জন্যও বঙ্গ প্রসিদ্ধ ছিল। শণের তৈরি মােটা
কাপড়ও তখন প্রস্তুত হতাে। জানা যায় যে, বঙ্গদেশে সে সময় টিন পাওয়া যেত।বঙ্গে কৃষি ও শিল্পদ্রব্যের প্রাচুর্য ছিল। আবার এগুলাের খুব চাহিদাও ছিল ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে এবং
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। তাই বঙ্গের সঙ্গে প্রাচীনকালে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য চলত।
বঙ্গের রপ্তানি পণ্যের মধ্যে উল্লেখযােগ্য ছিল সুতি ও রেশমি কাপড়, চিনি, গুড়, লবণ, তেজপাতা ও অন্যান্য
মসলা, চাল, নারকেল, সুপারি, ঔষধ তৈরির গাছপালা, নানা প্রকার হীরা, মুক্তা, পান্না ইত্যাদি।| শিল্পের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে বাংলার বাণিজ্যও যথেষ্ট প্রসার লাভ করেছিল। স্থল ও জল উভয় পথেই
বাণিজ্যের আদান-প্রদান চলত। দেশের ভেতরে বাণিজ্য ছাড়াও সে সময়ে বাংলা বৈদেশিক বাণিজ্যে বিশেষ
উন্নত ছিল । স্থল ও জলপথে ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে বাংলার পণ্য বিনিময় চলতাে। এ কারণে বাংলার
বিভিন্ন স্থানে বড় বড় নগর ও বাণিজ্য বন্দর গড়ে উঠেছিল। এগুলাে হলাে-নব্যাবশিকা, কোটীবর্ষ, পুণ্ড্রবর্ধন,
তামলিপ্ত, কর্ণসুবর্ণ, সপ্তগ্রাম ইত্যাদি। অবশ্য শহর ছাড়া গ্রামের হাটবাজারেও কিছু কিছু ব্যবসা-বাণিজ্য
চলতাে। এসব গ্রামের হাটে গ্রামে উৎপন্ন ও নিত্যপ্রয়ােজনীয় জিনিসপত্র বেচাকেনা হতাে। সমুদ্রপথে
| সিংহল, ব্রহ্মদেশ, চম্পা, কম্বােজ, যবদ্বীপ, মালয়, শ্যাম, সুমাত্রা, চীন প্রভৃতি দেশের সঙ্গে বাংলার পণ্য।
বিনিময় চলতাে। স্থলপথে চীন, নেপাল, ভুটান, তিব্বত ও মধ্য এশিয়া প্রভৃতি দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক।
যােগাযােগ ছিল।| শিল্পের উন্নতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের ফলে বাংলার ধন-সম্পদ ও ঐশ্বর্য প্রচুর বৃদ্ধি পেয়েছিল ।।
প্রাচীনকালে হয়ত ক্রয়-বিক্রয় এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য বিনিময় প্রথা প্রচলিত ছিল। সম্ভবত খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ ।
শতকের পূর্বে বাংলায় মুদ্রার প্রচলন আরম্ভ হয়। বিভিন্ন সময়ে বঙ্গদেশে বিভিন্ন প্রকার মুদ্রা চালু থাকলেও
| এখানে কড়ি সবচেয়ে কম মান হিসেবে ব্যবহৃত হতাে।
[end]

Posted on 1 Comment

[part-2]দেখে নিন দুর্যোগ সৃষ্টির কারণ, প্রতিরােধ, মােকাবিলার কৌশল এবং তাৎক্ষণিক করণীয় সম্পকে??

[start]
[img id=1879]
[h2]বন্যা :[/h2]
নদীমাতৃক বাংলাদেশের জন্য বন্যা একটি নিয়মিত প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায়
প্রতিবছরই বন্যায় দেশের কোনাে না কোনাে অঞ্চলে ফসল, গবাদিপশু এবং অন্যান্য সম্পদের মারাত্মক।
ক্ষতি হয়, যা মাঝে মাঝে ভয়াবহ আকার ধারণ করে। ১৯৭৪, ১৯৮৭, ১৯৮৮, ১৯৯০, ১৯৯৫, ২০০৪
এবং ২০০৭ সালের প্রলয়ংকরী বন্যায় দেশের অনেক ক্ষতি হয়েছে। ১৯৭৪ সালে এই ক্ষতির মাত্রা এত
বেশি ছিল যে সেটি বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
এখন প্রশ্ন হলাে কেন বন্যা হয়, এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ কী? বন্যা হওয়ার পিছনে বেশ
কিছু জটিল কারণ আছে। যার মাঝে অন্যতম কারণটি হচ্ছে নদ-নদীগুলাের পানি ধারণক্ষমতা কমে
যাওয়া। নদীভাঙন, বর্জ্য অব্যবস্থাপনাসহ নানা কারণে নদ-নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় নদ-নদীগুলাের পানি
ধারণক্ষমতা কমে গেছে। যে কারণে ভারী বর্ষণ বা উজানের অববাহিকা থেকে আসা পানি খুব সহজে।
সাগরে যেতে পারে না এবং নদী ভরে দুকূল ছাপিয়ে বন্যা সৃষ্টি করে। এছাড়া মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে
বঙ্গোপসাগরের সৃষ্ট জোয়ারের কারণে উজানের পানি অনেক সময় নদ-নদীর মাধ্যমে সাগরে যেতে দাও
পারে না। ফলে নদ-নদীর আশপাশের এলাকায় বন্যা সৃষ্টি হয়। আবার বাংলাদেশের বেশির ভাগ এলাকা ।
সমতল হওয়ায় বৃষ্টির পানি সহজে নদ-নদীতে গিয়ে পড়তে পারে না। কাজেই বিস্তীর্ণ এলাকা, বিশেষ।
করে উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। সাম্প্রতিক কালে ঘূর্ণিঝড় আইলা ও সিডর এবং এদের প্রভাবে এ
সৃষ্ট বন্যার কথা আমরা সবাই জানি।এখন আমরা এই বন্যা প্রতিরােধ, মােকাবিলার কৌশল, করণীয় ও উপায় সম্পর্কে জেনে নেই। যেহেতু
বন্যা সৃষ্টির একটি অন্যতম কারণ হলাে নদ-নদীসমূহের সীমিত পানি ধারণক্ষমতা। তাই বন্যার হাত
থেকে রক্ষা পেতে হলে নদী খনন করে এদের পানি ধারণক্ষমতা বাড়াতে হবে যেন, ভারী বর্ষণ বা ।
উজানের পানি এলেও বন্যা না হয়। বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশে বন্যা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ১৯৬০ সালের পর থেকে বাংলাদেশে এ পর্যন্ত প্রায় ৮০০০ কিলােমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ।
করা হয়েছে। তবে প্রায় প্রতিবছরই অনেক জায়গায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভাঙনের ফলে (বিশেষ করে।
সিরাজগঞ্জ জেলায়) বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা দেখা দেয়। অনেক সময়েই এটি ঘটে সংশ্লিষ্ট বিভাগ কিংবা
ব্যক্তিদের অদক্ষতা বা অব্যবস্থাপনার কারণে।নদী শাসন করেও বন্যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা নেওয়া যায়। নদী শাসন হচ্ছে, নদীর পাড়ে পাথর,
সিমেন্টের ব্লক, বালির বস্তা, কাঠ বা বাঁশের ঢিবি তৈরি করে এগুলাের মাধ্যমে বন্যা প্রতিরােধ করা।
এছাড়া নদীর পাড়ে গাছ লাগানাে, পানিপ্রবাহের জন্য সুইস গেট নির্মাণ— এগুলােও নদী শাসনেরই
অংশ।বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কবাণী
বন্যা সম্পর্কে আগাম পূর্বাভাস এবং সতর্কবাণী প্রচার করে বন্যাজনিত ক্ষতির পরিমাণ অনেকখানিই
কমানাে যেতে পারে। বাংলাদেশের ৫৮টি নদীর উৎপত্তিস্থল হচ্ছে ভারত, নেপাল ও ভুটান। তাই সঠিক
পূর্বাভাস দেওয়া অনেক সময়েই সম্ভব হয় না। কাজেই আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলাের সাথে আঞ্চলিক
সহযােগিতা গড়ে তুলতে হবে, যেন আগে থেকেই এ সংক্রান্ত সব তথ্য পাওয়া যায় এবং তার উপর।
ভিত্তি করে একটা ফলপ্রসূ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
এছাড়া নিচ এবং বন্যাপ্রবণ এলাকায় যেন জনবসতি গড়ে উঠতে না পারে, সেজন্য ভূমি ব্যবহার এবং
| নিয়ন্ত্রণে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং করণীয় সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি
করা বন্যা মােকাবেলায় অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। তাই এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে
হবে।বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কবাণী
বন্যা সম্পর্কে আগাম পূর্বাভাস এবং সতর্কবাণী প্রচার করে বন্যাজনিত ক্ষতির পরিমাণ অনেকখানিই
কমানাে যেতে পারে। বাংলাদেশের ৫৮টি নদীর উৎপত্তিস্থল হচ্ছে ভারত, নেপাল ও ভুটান। তাই সঠিক
পূর্বাভাস দেওয়া অনেক সময়েই সম্ভব হয় না। কাজেই আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলাের সাথে আঞ্চলিক
সহযােগিতা গড়ে তুলতে হবে, যেন আগে থেকেই এ সংক্রান্ত সব তথ্য পাওয়া যায় এবং তার উপর।
ভিত্তি করে একটা ফলপ্রসূ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
এছাড়া নিচ এবং বন্যাপ্রবণ এলাকায় যেন জনবসতি গড়ে উঠতে না পারে, সেজন্য ভূমি ব্যবহার এবং
| নিয়ন্ত্রণে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং করণীয় সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি
করা বন্যা মােকাবেলায় অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। তাই এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে
হবে।বন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কবাণী
বন্যা সম্পর্কে আগাম পূর্বাভাস এবং সতর্কবাণী প্রচার করে বন্যাজনিত ক্ষতির পরিমাণ অনেকখানিই
কমানাে যেতে পারে। বাংলাদেশের ৫৮টি নদীর উৎপত্তিস্থল হচ্ছে ভারত, নেপাল ও ভুটান। তাই সঠিক
পূর্বাভাস দেওয়া অনেক সময়েই সম্ভব হয় না। কাজেই আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশগুলাের সাথে আঞ্চলিক
সহযােগিতা গড়ে তুলতে হবে, যেন আগে থেকেই এ সংক্রান্ত সব তথ্য পাওয়া যায় এবং তার উপর।
ভিত্তি করে একটা ফলপ্রসূ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
এছাড়া নিচ এবং বন্যাপ্রবণ এলাকায় যেন জনবসতি গড়ে উঠতে না পারে, সেজন্য ভূমি ব্যবহার এবং
| নিয়ন্ত্রণে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং করণীয় সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি
করা বন্যা মােকাবেলায় অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। তাই এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে
হবে।ভয়াবহ বন্যা হলে সরকারি উঁচ ভবন কিংবা স্থাপনা যেন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ সাময়িক আশ্রয় হিসেবে।
ব্যবহার করতে পারে তার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। আবার উঁচু স্থানে আশ্রয়কেন্দ্র বা মালামাল
সংরক্ষণ কেন্দ্র, উঁচু রাস্তাঘাট, উঁচু স্থানে বাজার কিংবা স্কুল ইত্যাদি তৈরি করে বন্যা মােকাবেলা করা।
যায়। বন্যার সময় বেশির ভাগ রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে যায়। তখন চলাচলের জন্য স্পিডবােট এবং
| নৌকার ব্যবস্থা রাখাও বন্যা মােকাবেলায় সহায়ক ভূমিকা পালন করে।খরা একটি মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগ। খরার সময় মাটিতে পানির পরিমাণ কমতে কমতে মাটি।
পানিশূন্য হয়ে যায় এবং এর ফলে মাটিতে গাছপালা বা শস্য জন্মাতে পারে না। ব্রিটিশরা একটানা দুই
সপ্তাহ ০.২৫ মিলিমিটারের কম বৃষ্টিপাত হলে তাকে খরা (Absolute Drought) আর একটানা ৪
| সপ্তাহ ০.২৫ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত না হলে তাকে আংশিক খরা (Partial Drought) বলে।
রাশিয়াতে একটানা ১০ দিন মােট ৫ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি না হলে তাকে খরা বলে আর আমেরিকাতে
একটানা ৩০ দিন বা তার বেশি সময়ের মধ্যে যেকোনাে ২৪ ঘণ্টায় ৬.২৪ মিলিমিটার বৃষ্টি না হলে তারা ।
ঐ অবস্থাকে খরা হিসেবে ধরে নেয়।খরা একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ (চিত্র ৯.০৪)। খরা হলে ফসল উৎপাদন কমে যায় এবং এটি দুর্ভিক্ষের
কারণও হতে পারে। খরার ফলে শুধু মানুষ নয়, গবাদিপশুর জন্যও খাদ্যসংকট দেখা দেয়। কৃষিনির্ভর
শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়, যেটি কর্মসংস্থানের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। খরার

কারণে মাটির উর্বরতা কমে যায়। দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে দেশে সামাজিক এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা
| দেখা দিতে পারে। বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলা (রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ,
| দিনাজপুর, বগুড়া, কুষ্টিয়া, যশাের) খরার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। বাংলাদেশে ১৯৭৮-৭৯ সালে ভয়াবহ খরা
হয়েছিল। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, এই খরায় ক্ষতির পরিমাণ ১৯৭৪ সালের ভয়াবহ বন্যার চেয়েও
বেশি ছিল।| কেন খরা হয়? খরা হওয়ার বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে, যার মাঝে অন্যতম হচ্ছে দীর্ঘদিন শুষ্ক
| আবহাওয়া থাকা এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ বৃষ্টিপাত না হওয়া। বাষ্পীভবন এবং প্রস্বেদনের পরিমাণ
বৃষ্টিপাতের চেয়ে বেশি হলেও এমনটি ঘটতে পারে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে অপরিকল্পিত উন্নয়ন,
বৃক্ষনিধন এবং গ্রিন হাউস গ্যাসের প্রভাবে বায়ুমণ্ডল ধীরে ধীরে রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে উঠেছে, ফলে বার্ষিক
বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যাচ্ছে, যেটি খরা সৃষ্টির মূল কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাম্প্রতিককালে
বাংলাদেশে বৃষ্টিপাত কমে খরা সৃষ্টি হওয়ার জন্য পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের মেরু অঞ্চলে সৃষ্ট এল-নিনাে
(El-Nino) নামে জলবায়ুর পরিবর্তনচক্রকে দায়ী করা হচ্ছে।
| খরার জন্য দায়ী একটি অন্যতম কারণ হচ্ছে গভীর নলকূপের সাহায্যে ভূগর্ভের পানির মাত্রাতিরিক্ত
| উত্তোলনের ফলে পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে যাওয়া। এছাড়া নদীর গতিপথ পরিবর্তন,

উজান থেকে পানি সরিয়ে নেওয়া, পানি সংরক্ষণ প্রক্রিয়ার অভাব, ওজোন স্তরের ক্ষয়— এগুলােও খরা।
| সৃষ্টির জন্য দায়ী।এখন প্রশ্ন হলাে, খরা প্রতিরােধে বা খরা মােকাবিলার জন্য কী করা যেতে পারে? যেহেতু খরার মূল।
কারণ হলাে পানির অপর্যাপ্ততা, তাই পানির সরবরাহ বাড়ানােই হচ্ছে খরা মােকাবিলার সবচেয়ে
কার্যকর উপায়। বাংলাদেশের প্রায় ৫৫টি নদীর উৎসস্থল ভারত। শুষ্ক মৌসুমে ভারতের ঐ সকল নদ-
| নদীর পানির গতিপথ পরিবর্তন এবং পানি প্রত্যাহার বাংলাদেশে খরার অন্যতম কারণ। এর আগে গঙ্গা

নদীর পানিও ভারত একতরফাভাবে ব্যবহার করত। ১৯৯৬ সালে ভারত এবং বাংলাদেশের মধ্যে পানি
বণ্টন চুক্তির কারণে বাংলাদেশ এখন শুষ্ক মৌসুমে পানির ন্যায্য হিস্যা পাচ্ছে। গঙ্গার পানির চুক্তির মতাে
তিস্তাসহ অন্যান্য নদীর পানি বণ্টনের জন্য ভারতের সাথে পানি বণ্টন চুক্তি করার চেষ্টা চলছে, যেন
| শুষ্ক মৌসুমে ভারত একতরফাভাবে উজান থেকে পানি সরিয়ে নিতে না পারে।।
| কিছু ফসল আছে যেগুলাে মাটিতে পানি কম থাকলেও জন্মাতে পারে। যেমন: গম, পিঁয়াজ, কাউন
– ইত্যাদি।
[end]

Posted on 1 Comment

যেনে নিন ইংরেজের শাসন আমলের বাংলার স্বাধিকার আন্দোলন সম্পকে??

[start]
[img id=1763]
[h2]ইংরেজের শাসন আমলের বাংলার স্বাধিকার আন্দোলন:[/h2]
বাঙালিরা কখনই বিদেশি ইংরেজ শাসকদের মেনে নেয়নি।


ফলে, পলাশি যুদ্ধের পর পরই এদেশের কৃষকরা।


বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। পরাধীনতার একশ’ বছর পর স্বাধীনতা ঘােষণা করে এদেশের সৈনিকরা ও দেশীয় ।


রাজারা। পরবর্তী পর্যায়ে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ে পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত তরুণ সমাজ।।


বাঙালি তরুণ সমাজ সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে দলে দলে আত্মাহুতি দিয়ে কাপিয়ে তােলে ইংরেজ শাসনের ভিত।।


উপমহাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনে সবচেয়ে গৌরবময় ভূমিকা ছিল বাঙালিদের। এই অধ্যায়ে ১৮৫৭ সালে ।


প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামসহ পরবর্তী আন্দোলনসমূহে বাঙালি তথা তৎকালীন ভারতবাসীর গৌরব ও
আত্মত্যাগের ইতিহাস সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।


১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা সংগ্রাম
পলাশি যুদ্ধের একশ’ বছর পর ভারতের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে প্রধানত সিপাহিদের নেতৃত্বে যে সশস্ত্র বিদ্রোহ
সংঘটিত হয়, তাকেই ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়।


ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কর্তৃক দীর্ঘ সময় ধরে।
রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক শােষণ, সামাজিকভাবে হেয় করা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা, সর্বোপরি
ভারতীয় সৈনিকদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ- এসবই এই সংগ্রামের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। নিম্নে প্রথম।


স্বাধীনতা সংগ্রামের কারণসমূহ উল্লেখ করা হলাে।রাজনৈতিক : পলাশি যুদ্ধের পর থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজ্য বিস্তার, একের পর এক দেশীয়।


রাজ্যগুলাে দখল, দেশীয় রাজন্যবর্গের মধ্যে ভীতি, অসন্তোষ ও তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। লর্ড ডালহৌসি
|


স্বত্ত্ববিলােপ নীতি প্রয়ােগ করে সাতারা, ঝাসি, নাগপুর, সম্বলপুর, ভগৎ, উদয়পুর, রাউলি ব্রিটিশ
সাম্রাজ্যভুক্ত করেন।


স্বত্ববিলােপ নীতি অনুযায়ী দত্তক পুত্র সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে পারত না। তাছাড়া
অপশাসনের অজুহাতে অযােধ্যা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করা হয়। এসব ঘটনায় দেশীয় রাজন্যবর্গ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন।


অর্থনৈতিক : ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় চরম অর্থনৈতিক শােষণ বঞ্চনা।


কোম্পানি রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের আগেই এদেশের শিল্প ধ্বংস করেছিল । ক্ষমতা দখলের পর ভূমি রাজস্ব
নীতির নামে ধ্বংস করা হয় দরিদ্র কৃষকের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড। আইন প্রয়ােগের ফলে অনেক বনেদি ।


জমিদার সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।রাজনৈতিক : পলাশি যুদ্ধের পর থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজ্য বিস্তার, একের পর এক দেশীয়।


রাজ্যগুলাে দখল, দেশীয় রাজন্যবর্গের মধ্যে ভীতি, অসন্তোষ ও তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। লর্ড ডালহৌসি
|


স্বত্ত্ববিলােপ নীতি প্রয়ােগ করে সাতারা, ঝাসি, নাগপুর, সম্বলপুর, ভগৎ, উদয়পুর, রাউলি ব্রিটিশ
সাম্রাজ্যভুক্ত করেন। স্বত্ববিলােপ নীতি অনুযায়ী দত্তক পুত্র সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে পারত না। তাছাড়া
অপশাসনের অজুহাতে অযােধ্যা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করা হয়। এসব ঘটনায় দেশীয় রাজন্যবর্গ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ
হন।


অর্থনৈতিক : ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় চরম অর্থনৈতিক শােষণ বঞ্চনা।


কোম্পানি রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের আগেই এদেশের শিল্প ধ্বংস করেছিল । ক্ষমতা দখলের পর ভূমি রাজস্ব
নীতির নামে ধ্বংস করা হয় দরিদ্র কৃষকের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড। আইন প্রয়ােগের ফলে অনেক বনেদি ।


জমিদার সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন।দরিদ্র কৃষকের ওপর অতিরিক্ত কর ধার্য করা হয়। জমিদার ও রাজস্ব আদায়কারীদের তীব্র শােষণের শিকার
এসব কৃষক মহাজনদের কাছে ঋণগ্রস্ত হয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়ে।


একদিকে বাজার দখলের নামে স্থানীয় শিল্প ধ্বংস, অপর দিকে অতিরিক্ত অর্থ লাভের আশায় জমি।


বন্দোবস্তের নামে কৃষি ধ্বংস হয়। ফলে বাংলার অর্থনৈতিক কাঠামাে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়।



অবস্থার শিকার সাধারণ মানুষ কোম্পানি শাসন-শােষণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।সামাজিক ও ধর্মীয় : উপমহাদেশের জনগণের ক্ষোভের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল সামাজিক ও ধর্মীয় ।।


আঠারাে শতকের শেষ ভাগে এবং উনিশ শতকের প্রথমার্ধে পাশ্চাত্যের প্রভাব, কোম্পানির সমাজ সংস্কার
জনকল্যাণমূলক হলেও গােটা রক্ষণশীল হিন্দু-মুসলমান এসব মেনে নিতে পারেনি ।


ইংরেজি শিক্ষা, সতীদাহ
প্রথা উচ্ছেদ, হিন্দু বিধবাদের পুনরায় বিবাহ, খ্রিষ্টান ধর্মযাজকদের ধর্ম প্রচার ইত্যাদির ফলে হিন্দু-মুসলমান
সম্প্রদায়ের গোড়াপন্থীরা শঙ্কিত হয়ে ওঠে। ধর্ম ও সামাজিক রীতিনীতি বিভিন্নভাবে সংস্কারের কারণে ক্ষুব্ধ
হয় উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ।সামরিক ও সামরিক বাহিনীতে ইংরেজ ও ভারতীয় সৈন্যদের মধ্যকার বৈষম্য বিদ্রোহের অন্যতম কারণ।


ইংরেজ সৈন্য ও ভারতীয় সিপাহিদের মধ্যে পদবি এবং বেতন-ভাতার মধ্যে বিরাট বৈষম্য ছিল। ভারতীয়দের
সুযােগ-সুবিধাও কম ছিল। তাছাড়া পদোন্নতির সুযােগ থেকেও তারা বঞ্চিত ছিল। তার ওপর ব্রিটিশ
অফিসারদের পক্ষপাতিত্ব, ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ সিপাহিদের মধ্যে বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে দেয়।


তাছাড়া হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের সিপাহিদের ব্যবহারের জন্য এনফিল্ড’ রাইফেলের প্রচলন করা।
হয়। এই রাইফেলের টোটা দাঁত দিয়ে কেটে বন্দুকে প্রবেশ করাতে হতাে। সৈন্যদের মধ্যে ব্যাপকভাবে এ
গুজব ছড়িয়ে পড়ল যে, এই টোটায় গরু ও শূকরের চর্বি মিশ্রিত আছে। ফলে উভয়ই ধর্মনাশের কথা ভেবে
বিদ্রোহী হয়ে উঠল।


স্বাধীনতা সংগ্রাম : বিদ্রোহের আগুন প্রথমে জ্বলে ওঠে পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে। ১৮৫৭ সালের ২৯শে মার্চ
বন্দুকের গুলি ছুড়ে বিদ্রোহের সূচনা করেন মঙ্গল পাণ্ডে নামে এক সিপাহি। দ্রুত এই বিদ্রোহ মিরাট, কানপুর,
পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, বিহার, বাংলাসহ ভরতের প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে ঢাকা,
| চট্টগ্রাম, যশাের, সিলেট, কুমিল্লা, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী এই বিদ্রোহে শামিল হয়।| বিদ্রোহীরা দিল্লি দখল করে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে


ভারতবর্ষের বাদশা বলে ঘােষণা করে। এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ
করেন নানা সাহেব, ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাঈ, অযােদ্ধার বেগম।
হজরত মহল, মৌলভি আহমদ উল্লাহসহ ক্ষুব্ধ বঞ্চিত দেশীয়
রাজন্যবর্গ। বিভিন্ন স্থানে ভারতীয় সিপাহি ও যুদ্ধরত বিদ্রোহী।
নেতারা প্রাণপণ লড়াই করে পরাজিত হন। এই সংগ্রামে জড়িত।


| অধিকাংশই যুদ্ধে শহিদ মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে রেঙ্গুনে (মিয়ানমার)
নির্বাসিত করা হয়। রানি লক্ষ্মীবাঈ যুদ্ধে নিহত হন। নানা সাহেব
পরাজিত হয়ে অন্তর্ধান করেন। সাধারণ সৈনিক বিদ্রোহীদের।
ওপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন। ঢাকার বাহাদুর শাহ
পার্কে ঝুলিয়ে রাখা হয় অনেক সৈনিকের লাশ। এ ধরনেরপ্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামের গুরুত: এই বিদ্রোহের তাৎক্ষণিক গুরুত্বও ছিল। এর ফলে কোম্পানি শাসনের
অবসান হয়। ব্রিটিশ সরকার ভারতের শাসনভার নিজ হাতে গ্রহণ করে।
১৮৫৮ সালের ১লা নভেম্বর মহারানি ভিক্টোরিয়ার এক ঘােষণাপত্রে স্বভূবিলােপ নীতি এবং এর সঙ্গে যুক্ত
অন্যান্য নিয়ম বাতিল করা হয়। তাছাড়া এই ঘােষণাপত্রে যােগ্যতা অনুযায়ী ভারতীয়দের চাকরি প্রদান এবং
ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তাসহ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি ক্ষমা ঘােষণা করা হয় ।


দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে রেঙ্গুনে নির্বাসিত করা হয়। এই বিদ্রোহের সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব হচ্ছে এই বিদ্রোহের
ক্ষোভ থেমে যায়নি। এই সংগ্রামের পরিপ্রেক্ষিতে জনগণ সচেতন হয়ে ওঠে এবং আন্দোলন-সংগ্রামের
মধ্য দিয়ে ১৯৪৭ সালে ইংরেজ শাসনের অবসান ঘটায়।


বীভৎস ঘটনা ঘটিয়ে শাসকগােষ্ঠী জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা
করে। ফলে নির্যাতনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ভারতের প্রথম স্বাধীনতা।হন, বাকিদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয় ।মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে রেঙ্গুনে (মিয়ানমার)
নির্বাসিত করা হয়। রানি লক্ষ্মীবাঈ যুদ্ধে নিহত হন। নানা সাহেব
পরাজিত হয়ে অন্তর্ধান করেন। সাধারণ সৈনিক বিদ্রোহীদের।


ওপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন। ঢাকার বাহাদুর শাহ
পার্কে ঝুলিয়ে রাখা হয় অনেক সৈনিকের লাশ। এ ধরনের
বীভৎস ঘটনা ঘটিয়ে শাসকগােষ্ঠী জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা
করে। ফলে নির্যাতনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ভারতের প্রথম স্বাধীনতা।


বাহাদুর শাহ পাক
* সংগ্রাম। ১৮৫৮ সালের জুলাইয়ের মধ্যে সব আন্দোলন শেষ হয়ে যায়। তবে এর প্রভাব ছিল সূদূরপ্রসারী।প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রামের গুরুত: এই বিদ্রোহের তাৎক্ষণিক গুরুত্বও ছিল। এর ফলে কোম্পানি শাসনের
অবসান হয়। ব্রিটিশ সরকার ভারতের শাসনভার নিজ হাতে গ্রহণ করে।
১৮৫৮ সালের ১লা নভেম্বর মহারানি ভিক্টোরিয়ার এক ঘােষণাপত্রে স্বভূবিলােপ নীতি এবং এর সঙ্গে যুক্ত
অন্যান্য নিয়ম বাতিল করা হয়। তাছাড়া এই ঘােষণাপত্রে যােগ্যতা অনুযায়ী ভারতীয়দের চাকরি প্রদান এবং
ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তাসহ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি ক্ষমা ঘােষণা করা হয় ।


দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে রেঙ্গুনে নির্বাসিত করা হয়। এই বিদ্রোহের সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব হচ্ছে এই বিদ্রোহের
ক্ষোভ থেমে যায়নি। এই সংগ্রামের পরিপ্রেক্ষিতে জনগণ সচেতন হয়ে ওঠে এবং আন্দোলন-সংগ্রামের
মধ্য দিয়ে ১৯৪৭ সালে ইংরেজ শাসনের অবসান ঘটায়।বঙ্গভঙ্গ (১৯০৫-১৯১১ সালে)।
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গের প্রভাব ছিল সদরপ্রসারী । ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে হিন্দু-
মুসলিম সম্প্রদায়ের সম্প্রীতি চিরতরে নষ্ট হয়ে যায়। একে অপরকে শত্রু ভাবতে শুরু করে। উভয়ের মধ্যে।
অবিশ্বাস বৃদ্ধি পেতে থাকে। নেতাদের উদার প্রচেষ্টা, যৌথ রাজনৈতিক কর্মসূচির ফলে মাঝে মাঝে এক্যের
সম্ভাবনা উজ্জ্বল হলেও শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ বিভেদ নীতিরই জয় হয়। উভয় সম্প্রদায়ের পরস্পরের প্রতি
অবিশ্বাস ও শত্রুতার অবসান ঘটে।


পরিণতিতে ১৯৪৭ সালে উপমহাদেশ ভাগ হয়।
বঙ্গভঙ্গ পটভূমি : ভারতের বড় লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন। এই বিভক্তি
ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত। ভাগ হবার পূর্বে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা, মধ্যপ্রদেশ ও আসামের কিছু
অংশ নিয়ে গঠিত ছিল বাংলা প্রদেশ বা বাংলা প্রেসিডেন্সি। বঙ্গভঙ্গের এই পরিকল্পনা অনেক আগে থেকেই
শুরু হয়েছিল। বাংলা প্রেসিডেন্সির আয়তন অনেক বড় হওয়ার কারণে ১৮৫৩ থেকে ১৯০৩ সাল পর্যন্ত এর
সীমানা পুনর্বিন্যাসের অনেক প্রস্তাব ব্রিটিশ সরকারি মহলে উপস্থাপন করা হয়। প্রকৃতপক্ষে ১৯০৩ সালে।


বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা গৃহীত হয়। ১৯০৪ সালে ভারত সচিব এটি অনুমােদন করেন এবং ১৯০৫ সালের
জুলাই মাসে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়। এই বছর অক্টোবরে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়। এই
পরিকল্পনায় বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, আসাম, জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদহ নিয়ে।


গঠিত হয় পূর্ব বাংলা ও আসাম নামে নতুন প্রদেশ। প্রদেশের রাজধানী হয় ঢাকা। অপরপক্ষে পশ্চিম বাংলা,
| বিহার, উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিম বাংলা প্রদেশ, যার রাজধানী হয় কোলকাতা।বঙ্গভঙ্গের কারণ : বঙ্গভঙ্গের পেছনে বেশ কিছু কারণ ছিল, যা নিচে উল্লেখ করা হলাে-


প্রশাসনিক কারণ : লর্ড কার্জনের শাসনামলে বঙ্গভঙ্গ ছিল একটি প্রশাসনিক সংস্কার। উপমহাদেশের এক-
৩৩ায়াংশ লােকের বসবাস ছিল বাংলা প্রেসিডেন্সিতে। কোলকাতা থেকে পূর্বাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ওসরবরাহ করা হতাে তার জন্যও সুষ্ঠু যােগাযােগব্যবস্থা ছিল না। ফলে পূর্ব বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থা
ক্রমে খারাপ হতে থাকে। উপযুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাবে শিক্ষা, উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে না
পারায় এ অঞ্চলের লােকজন অশিক্ষিত থেকে যায় । কর্মহীনের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যেতে থাকে।


এরাজনৈতিক কারণ : লর্ড কার্জন শুধু শাসন-সবিধার জন্য বা পর্ব বাংলার জনগণের কল্যাণের কথা বিবেচনা
করে বঙ্গভঙ্গ করেননি। এর পেছনে বিটিশ প্রশাসনের সদরপ্রসারী রাজনৈতিক স্বার্থও জড়িত ছিল। লড়।
কাজন বাংলার রাজনৈতিক সচেতনতা সম্পর্কে সতর্ক ছিলেন। বাঙালি মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবী শ্রেণি ক্রমশ
জাতীয়তাবাদ ও রাজনীতি সচেতন হয়ে উঠেছিল । বিষয়টি তার দষ্টি এড়ায়নি। কংগ্রেস নেতারা কোলকাতা
বহে সারা ভারতের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতেন। সতরাং কোলকাতাকে কেন্দ্র করে বিটিশবিরােধ আন্দোলন
থামিয়ে দেওয়া ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। হিন্দ ও মুসলমান সম্মিলিত শক্তি, ঐক্যবদ্ধ বাংলা ছিল ব্রিটিশ
প্রশাসনের জন্য বিপজ্জনক। ফলে বাংলা ভাগ করে একদিকে বাঙালির শক্তিকে দুর্বল করা হলাে, অপরদিকে
পূর্ব বাংলার উন্নয়নের নামে মুসলমান সম্প্রদায়কে খুশি করা হলাে। এভাবেই কার্জন ‘বিভেদ ও শাসন নীতি
প্রয়ােগ করে যতটা না পূর্ব বাংলার কল্যাণে, তার চেয়ে বেশি ব্রিটিশ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে বাংলা ভাগ।
করেন । এভাবে কৌশলে ভারতীয় জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করার ব্যবস্থা করা হলাে।রাজনৈতিক কারণ : লর্ড কার্জন শুধু শাসন-সবিধার জন্য বা পর্ব বাংলার জনগণের কল্যাণের কথা বিবেচনা
করে বঙ্গভঙ্গ করেননি। এর পেছনে বিটিশ প্রশাসনের সদরপ্রসারী রাজনৈতিক স্বার্থও জড়িত ছিল। লড়।
কাজন বাংলার রাজনৈতিক সচেতনতা সম্পর্কে সতর্ক ছিলেন। বাঙালি মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবী শ্রেণি ক্রমশ
জাতীয়তাবাদ ও রাজনীতি সচেতন হয়ে উঠেছিল । বিষয়টি তার দষ্টি এড়ায়নি। কংগ্রেস নেতারা কোলকাতা
বহে সারা ভারতের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতেন। সতরাং কোলকাতাকে কেন্দ্র করে বিটিশবিরােধ আন্দোলন
থামিয়ে দেওয়া ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। হিন্দ ও মুসলমান সম্মিলিত শক্তি, ঐক্যবদ্ধ বাংলা ছিল ব্রিটিশ
প্রশাসনের জন্য বিপজ্জনক। ফলে বাংলা ভাগ করে একদিকে বাঙালির শক্তিকে দুর্বল করা হলাে, অপরদিকে
পূর্ব বাংলার উন্নয়নের নামে মুসলমান সম্প্রদায়কে খুশি করা হলাে। এভাবেই কার্জন ‘বিভেদ ও শাসন নীতি
প্রয়ােগ করে যতটা না পূর্ব বাংলার কল্যাণে, তার চেয়ে বেশি ব্রিটিশ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে বাংলা ভাগ।
করেন । এভাবে কৌশলে ভারতীয় জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করার ব্যবস্থা করা হলাে।
অবস্থার কথা বিবেচনা করে বঙ্গভঙ্গের প্রয়ােজন ছিল।
শাসনকার্য সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা ছিল কঠিন কাজ। যে কারণে লর্ড কার্জন এত বড় অঞ্চলকে একটি
প্রশাসনিক ইউনিটে রাখা যুক্তিসংগত মনে করেননি। তাই ১৯০৩ সালে বাংলা প্রদেশকে ভাগ করার
পরিকল্পনা করেন এবং ১৯০৫ সালে তা কার্যকর হয়।
আর্থ-সামাজিক কারণ : বাংলা ভাগের পেছনে আরাে কারণ ছিল যার একটি অর্থনৈতিক, অপরটি সামাজিক।
তখন কোলকাতা হয়ে উঠেছিল আর্থ-সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রাণকেন্দ্র। শিল্প, কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য,
অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবকিছুই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কোলকাতাকে ঘিরে। যা কিছু উন্নতি অগ্রগতি,
সবই ছিল কোলকাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে, পূর্ব বাংলার উন্নতি ব্যাহত হয়। অথচ এখান থেকে যে কাচামালসরবরাহ করা হতাে তার জন্যও সুষ্ঠু যােগাযােগব্যবস্থা ছিল না। ফলে পূর্ব বাংলার অর্থনৈতিক অবস্থা
ক্রমে খারাপ হতে থাকে। উপযুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাবে শিক্ষা, উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে না
পারায় এ অঞ্চলের লােকজন অশিক্ষিত থেকে যায় । কর্মহীনের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যেতে থাকে। এ
অবস্থার কথা বিবেচনা করে বঙ্গভঙ্গের প্রয়ােজন ছিল।রাজনৈতিক কারণ : লর্ড কার্জন শুধু শাসন-সবিধার জন্য বা পর্ব বাংলার জনগণের কল্যাণের কথা বিবেচনা
করে বঙ্গভঙ্গ করেননি। এর পেছনে বিটিশ প্রশাসনের সদরপ্রসারী রাজনৈতিক স্বার্থও জড়িত ছিল। লড়।
কাজন বাংলার রাজনৈতিক সচেতনতা সম্পর্কে সতর্ক ছিলেন। বাঙালি মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবী শ্রেণি ক্রমশ
জাতীয়তাবাদ ও রাজনীতি সচেতন হয়ে উঠেছিল । বিষয়টি তার দষ্টি এড়ায়নি। কংগ্রেস নেতারা কোলকাতা
বহে সারা ভারতের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতেন। সতরাং কোলকাতাকে কেন্দ্র করে বিটিশবিরােধ আন্দোলন
থামিয়ে দেওয়া ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। হিন্দ ও মুসলমান সম্মিলিত শক্তি, ঐক্যবদ্ধ বাংলা ছিল ব্রিটিশ
প্রশাসনের জন্য বিপজ্জনক। ফলে বাংলা ভাগ করে একদিকে বাঙালির শক্তিকে দুর্বল করা হলাে, অপরদিকে
পূর্ব বাংলার উন্নয়নের নামে মুসলমান সম্প্রদায়কে খুশি করা হলাে। এভাবেই কার্জন ‘বিভেদ ও শাসন নীতি
প্রয়ােগ করে যতটা না পূর্ব বাংলার কল্যাণে, তার চেয়ে বেশি ব্রিটিশ ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার স্বার্থে বাংলা ভাগ।
করেন । এভাবে কৌশলে ভারতীয় জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করার ব্যবস্থা করা হলাে।বঙ্গভঙ্গের প্রতিক্রিয়া : বঙ্গভঙ্গ ঘােষণার ফলে বাংলার মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় । পূর্ব বাংলার।
মুসলমানরা নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানায়। মুসলিম পত্র-পত্রিকাগুলােও বঙ্গ বিভাগে সন্তোষ।
প্রকাশ করে। নতুন প্রদেশের জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ছিল মুসলমান। সুতরাং পূর্ব বাংলার পিছিয়ে পড়া
মুসলমান সম্প্রদায় শিক্ষা-দীক্ষা এবং প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সুযােগ-সুবিধা পাবে এ আশায় তারা বঙ্গভঙ্গের।
প্রতি অকুণ্ঠ সমর্থন প্রদান করে ।
অপরদিকে বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের
নেতৃত্বে তারা বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তােলে। এর পেছনের কারণ সম্পর্কে কোনাে
কোনাে ঐতিহাসিক বলেছেন উঁচুতলার মানুষ অর্থাৎ পুঁজিপতি, শিক্ষিত মধ্যবিত্ত, জমিদার, আইনজীবী,
সংবাদপত্রের মালিক, রাজনীতিবিদদের স্বার্থে আঘাত লাগার কারণে এরা বঙ্গভঙ্গের ঘাের বিরােধিতা শুরু
করে । তবে ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষার কারণে হােক বা জাতীয় ঐক্যের মহৎ আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে হােক,
বঙ্গভঙ্গবিরােধী আন্দোলন অপ্রতিরােধ্য হয়ে ওঠে। এই আন্দোলনে সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি, বিপিনচন্দ্র পাল,
অরবিন্দ ঘােষ, অশ্বিনীকুমার দত্ত, বালগঙ্গাধর তিলকসহ গােখলের মতাে উদারপন্থী নেতাও অংশ নেন।
সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি বঙ্গভঙ্গকে জাতীয় দুর্যোগ বলে আখ্যায়িত করেন। বঙ্গভঙ্গবিরােধী আন্দোলন ক্রমে
স্বদেশী আন্দোলনে রূপ নেয়। চরমপন্থী নেতাদের কারণে এই আন্দোলনের সঙ্গে সশস্ত্র কার্যকলাপও যুক্ত
হয়। ব্রিটিশ সরকার আন্দোলনকারীদের দমন করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রহিত করে।
রাজা পঞ্চম জর্জ ভারত সফরে এসে ১৯১১ সালে দিল্লির দরবারে বঙ্গভঙ্গ রদের ঘােষণা দেন।
বঙ্গভঙ্গ রদের ফলে হিন্দু সম্প্রদায় খুশি হয়, আর কংগ্রেস মনে করে এটি তাদের নীতির জয় । কিন্তু মুসলমান
সমপ্রদায় বঙ্গভঙ্গ রদে প্রচণ্ড মর্মাহত হয়। ব্রিটিশ সরকার ও কংগ্রেসের প্রতি তাদের আস্থা নষ্ট হয়ে যায় ।
তারা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে শুরু করে কংগ্রেস মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষার জন্য নয়। মুসলিম নেতৃবৃন্দ একে।
ব্রিটিশ সরকারের বিশ্বাসঘাতকতার জঘন্য উদাহরণ বলে মন্তব্য করেন ।
বঙ্গভঙ্গের পর থেকে হিন্দু-মুসলমানের সম্পর্কে ফাটল ধরে। এরপর থেকেই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সূত্রপাত।
১৯০৬ সালে মুসলিম লীগ গঠিত হলে হিন্দু-মুসলমানের রাজনৈতিক পথ আলাদা হয়ে যায়। মুসলমানদের
জন্য ক্রমশ স্বতন্ত্র জাতি-চিন্তা তীব্র হতে থাকে।


[end]

Posted on Leave a comment

[part-1] দেখে নিন সাইক্লোন বা ঘূণিঝর কি??আর সইক্লোন তৈরির কারণ ও করণীয়?

[start]
[img id=1575]
[h2]সাইইক্লোন বা ঘূণিঝর:[/h2]

সাইক্লোন বা ঘূণিঝর সাইক্লোন শব্দটি  এসেছে ”kyklos”থেকে, যার অথ হলো coil of snakes বা সাপের কুনডলী।  সাইইক্লোন স্যাটালাইট এর ছবি থেকে দেখা যায়, প্রচণ্ড গতিবেগসম্পন্ন বাতাস কুনডলীয় আকারে ঘুরপাক খাচ্ছে। অথাৎ নিম্নচাপের কারণে যখন বাতাস প্রচণ্ড গতিবেগ ঘুরতে থাকে, তখন সেটাকে সাইক্লোন বা ঘূণিঝড় বলে। দক্ষিণ এশিয়াতে আমরা যেটাকে সাইক্লোন বলি, আমেরিকাতে সেটাকে হ্যারিকেন বলে এবং দূরপপ্রাচে দেশগুলোতে টাইইফুন বলে। বাংলাদেশের উত্তরে হিমালয় পর্বত, দক্ষিণে
বঙ্গোপসাগর এবং মাঝখানে ফানেল আকৃতির
উপকূলীয় এলাকা বিদ্যমান। ভৌগােলিক
অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ সাইক্লোনের
জন্য খুব ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। ১৯৬০ সাল থেকে
২০১২ সাল পর্যন্ত প্রায় ৫০ বার বাংলাদেশে
সাইক্লোন আঘাত এনেছে। এর মধ্যে ১৯৬০,
১৯৬১, ১৯৬৩, ১৯৬৫, ১৯৭০, ১৯৮৫,
১৯৯১, ২০০৭ ও ২০০৯ সালের সাইক্লোন
ছিল প্রলয়ংকরী। তবে ১৯৭০ সালের
সাইক্লোনটি সর্বকালের সবচেয়ে প্রলয়ংকরী
সাইক্লোন হিসেবে পৃথিবীর ইতিহাসে চিহ্নিত
হয়েছে। এ ঝড়ে প্রায় ৫ লক্ষ প্রাণহানি
ঘটেছিল। ১৯৯১ সালে ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ১ লক্ষ
৪০ হাজার প্রাণহানি ঘটেছে। ২০০৭ ও২০০৯ সালের সাইক্লোন সিডর ।
ও আইলাতে যথাক্রমে ১০ হাজার ও ৭ হাজার লােকের প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া এই সাইক্লোনে লক্ষ।
লক্ষ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছিল। এ দুটি সাইক্লোনে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে প্রায় ১.৭ ।
বিলিয়ন ও ৬০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

[img id=2426]
[h2]সাইক্লোন তৈরির কারণও করণীয় [/h2]
যেহেতু সাইক্লোন সৃষ্টি হয় গভীর সমুদ্রে, তাই এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা সহজসাধ্য নয়। তবে যে দুটি
কারণ মূলত সাইক্লোন সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তা হলাে নিম্নচাপ এবং উচ্চ তাপমাত্রা

।সাধারণত সাইক্লোন তৈরি হতে সাগরের তাপমাত্রা ২৭° সেলসিয়াসের বেশি হতে হয়। দুর্ভাগ্যবশত
বঙ্গোপসাগরে প্রায় সারা বছরই এই তাপমাত্রা বিদ্যমান থাকে। সমুদ্রের উত্তপ্ত পানি বাষ্পীভবনের
ফলে উপরে উঠে যখন জল কণায় পরিণত হয় তখন বাষ্পীভবনের সুপ্ত তাপটি বাতাসে ছেড়ে দেয়।
সে কারণে বাতাস উত্তপ্ত হয় এবং বাষ্পীভবন আরাে বেড়ে যায়, ফলে বায়ুমণ্ডল অস্থিতিশীল হয়ে
পড়ে নিম্নচাপের সৃষ্টি করে। নিম্নচাপ সৃষ্টি হলে আশপাশের বাতাস সেখানে ছুটে আসে, যা বাড়তি
তাপমাত্রার কারণে ঘুরতে ঘুরতে উপরে উঠতে থাকে এবং সাইক্লোন সৃষ্টি করে। এই প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট
হওয়া ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের বেগ অনেক বেশি হয়। তবে বাতাসের বেগ ঘণ্টায় ৬৩ কিলােমিটার বা তার
চাইতে বেশি হলে সেটাকে সাইক্লোন হিসেবে গণ্য করা হয়। এ পর্যন্ত বাংলাদেশে সবচেয়ে শক্তিশালী
সাইক্লোন হয়েছিল ১৯৯১ সালে। তখন বাতাসের বেগ ছিল ঘণ্টায় ২২৫ কিলােমিটার।এখন প্রশ্ন হলাে, সাইক্লোনের হাত থেকে রেহাই পাওয়ার কি কোনাে উপায় আছে? আর সাইক্লোন
হলে আমাদের করণীয়ই বা কী? সাইক্লোন অত্যন্ত শক্তিশালী। একটি দুর্বল সাইক্লোনও শক্তিতে মেগাটন
শক্তির কয়েক হাজার পারমাণবিক বােমার সমান। তাছাড়া যেহেতু সাইক্লোন একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ,
তাই এটি প্রতিরােধ করা প্রায় অসাধ্য। সম্প্রতি আমেরিকাতে ঝড়ের সময় সিলভার আয়ােডাইড (AgI)
নামক রাসায়নিক দ্রব্য বাতাসে ছড়িয়ে পানিকে শীতল করে ঘূর্ণিঝড়ের গতিবেগ কমানাের চেষ্টা করা
হলেও নানা ধরনের সীমাবদ্ধতার কারণে এটি ঠিকভাবে কাজ করেনি। এছাড়া সাগরে তেল বা অন্যান্যরাসায়নিক দ্রব্য ছিটিয়ে বাষ্পীভবন কমিয়ে ঘূর্ণিঝড়ের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার চিন্তাভাবনা করা হয়। তবে।
প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করা কখনােই বাস্তবভিত্তিক নয়। তাহলে কী করা যেতে পারে?আমাদের ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস প্রক্রিয়া জোরদার করে মানুষের প্রাণ বাঁচানাের এবং সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি
কমানাের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সাইক্লোন বা ঘূর্ণিঝড়ের আরেকটি মারাত্মক দিক হলাে

জলােচ্ছ্বাস। তাই ঘূর্ণিঝড় প্রবন এলাকায় উঁচু করে মজবুত আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করতে হবে। ঘূর্ণিঝড়ের
| সময় নিচু এলাকায় বসবাস করা মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়স্থলে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

| জলােচ্ছ্বাস ঠেকানাের জন্য উপকূলীয় এলাকায় বাঁধ তৈরি করা যেতে পারে। সাথে সাথে সেখানে প্রচুর
| গাছপালা লাগিয়েও ক্ষতির পরিমাণ কমানাে সম্ভব।ঘূর্ণিঝড় মােকাবেলার জন্য যথাযথ পূর্বপ্রস্তুতি নিতে হবে। বাংলাদেশ ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা।
মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশে রেড ক্রিসেন্টের যৌথ উদ্যোগে ইতােমধ্যেই সাইক্লোন প্রস্তুতি কার্যক্রম চালু
আছে। এর আওতায় প্রায় ৩২০০০ স্বেচ্ছাসেবী উপকূলীয় এলাকায় জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ অন্যান্য কাজ
করে যাচ্ছে।

২০১৭ সালে সাইক্লোন ‘মােরা’ বাংলাদেশকে আঘাত করেছিল, সময়মতাে যথাযথ ব্যবস্থা
নেওয়ায় তখন মাত্র ৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল।আমাদের অতিপরিচিত একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলাে কালবৈশাখী। সাধারণত এপ্রিল থেকে মে মাসের।
ভেতর আমাদের দেশে কালবৈশাখী ঝড় হয়। সাধারণত ঈশান কোণে (North) মেঘ জমা হয়ে।
কিছুক্ষণের মাঝে আকাশ মেঘে ঢেকে গিয়ে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। এই ঝড়ে বাতাসের বেগ ঘণ্টায়
৫৫ থেকে ৮০ কিলােমিটারের মতাে হতে পারে। ঝড়ের বেগ ঘণ্টায় ১০০ কিলােমিটারের বেশি হলে
এটাকে টর্নেডাে বলা হয়। বাংলাদেশ ছাড়াও আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও রাশিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশেই।
টর্নেডাে আঘাত হানে। টর্নেডোের সবচেয়ে ক্ষতিকর দিক হচ্ছে এটি হঠাৎ করে অল্প সময়ের মধ্যে
প্রচণ্ড ধ্বংসযজ্ঞ করে ফেলতে পারে। টর্নেডাে শব্দটি এসেছে স্প্যানিশ শব্দ ‘Tonada’ থেকে, যার অর্থপ্রচণ্ড ধ্বংসযজ্ঞ করে ফেলতে পারে। টর্নেডাে শব্দটি এসেছে স্প্যানিশ শব্দ “Tonada”থেকে, যার অথ হলাে Thunder storm বা বজ্রঝড়। সাইক্লোনের মতাে টর্নেডাের বেলাতেও প্রচণ্ড বেগে বাতাস ঘূর্ণির
আকারে প্রবাহিত হয় এবং এর যাত্রাপথে যা পড়ে তার সবই ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হয়। টর্নেডাের বিস্তার
| মাত্র কয়েক মিটার এবং দৈর্ঘ্য ৫-৩০ কিলােমিটার হতে পারে। সাইক্লোনের সাথে টর্নেডোের মূল পার্থক।
হচ্ছে যে, সাইক্লোন সৃষ্টি হয় সাগরে এবং এট উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানে আর টর্নেডাে যে।
কোনাে স্থানেই সৃষ্টি হতে পারে কিংবা আঘাত হানতে পারে। সাইক্লোনের মতাে টর্নেডাের জন্যও লঘু।
বা নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে হয়। এর ফলে উষ্ণ বাতাস উপরে উঠে যায় এবং ঐ শূন্য জায়গা পূরণের জন্যই।
শীতল বাতাস ছুটে এসে টর্নেডোের সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশে একটি প্রলয়ংকরী টর্নেডাে আঘাত হানে ১৯৮৯
সালে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়াতে। ঐ আঘাতের ফলে টর্নেডাের গতিপথের মধ্যে প্রায় সবকিছু ধ্বংস হয়ে
গিয়েছিল। ১৯৭৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত শতাধিক টর্নেডাে বাংলাদেশে আঘাত হেনেছে।

সারণকালের ভয়াবহ টর্নেডাের মধ্যে একটি হলাে ১৯৮১ সালের এপ্রিল মাসে ঢাকা জেলার ডেমরা
থানায়। ঐ টর্নেডােতে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ৬৪৪ কিলােমিটার। যেহেতু টর্নেডাের বেলায়পূর্বাভাস কিংবা সতর্কবাণী প্রচার করা সম্ভব হয় না, তাই এক্ষেত্রে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া যায় না। তাই
দুর্গত এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত ত্রাণ সরবরাহ এবং পুনর্বাসন কাজ করাই হচ্ছে একমাত্র সমাধান।
এরকম সময় সরকারি এবং বেসরকারি সব সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় করে কাজ করা খুবই জরুরি।
[end]